সালমান শাহ হত্যাকাণ্ড: ডনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার দাবি সিআইডির, রিমান্ড শেষে কারাগারে
জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুরহস্য তিন দশক পর আবারও নতুন মোড় নিয়েছে। এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া খল অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে ৫ দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দাবি করেছে, সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডে ডনের জড়িত থাকার বিষয়ে তারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পেয়েছে।
রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ ও ডনের আচরণ সিআইডি সূত্র জানায়, সালমান শাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত অনেক চলচ্চিত্রের সহকর্মী হওয়া সত্ত্বেও জিজ্ঞাসাবাদে ডন মামলার মূল বিষয়গুলো সুকৌশলে এড়িয়ে গেছেন।
- প্রসঙ্গ ঘোরানোর চেষ্টা: মূল ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ডন তার নিজের সাদামাটা জীবনযাপন এবং কখনোই চিকিৎসকের কাছে না যাওয়ার মতো অপ্রাসঙ্গিক বিষয় টেনে এনে প্রসঙ্গ পাল্টানোর চেষ্টা করেন।
- গতিবিধি বিশ্লেষণ: রিমান্ডে তার বক্তব্যে বেশ কিছু অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। ঘটনার আগে, ওই সময়ে এবং পরে তার গতিবিধি ও আচরণ বিশ্লেষণ করে সিআইডি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার সূত্র পেয়েছে।
- পরবর্তী পদক্ষেপ: ডনের দেওয়া তথ্যগুলো বর্তমানে নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে যেকোনো সময় তাকে পুনরায় রিমান্ডে নেওয়া হতে পারে এবং অন্য সন্দেহভাজনদের মুখোমুখি করেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।
গ্রেপ্তার ও আদালতের কার্যক্রম গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশত্যাগের সময় ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন ডন। পরে তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২৭ আগস্ট আদালত তার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। কাকতালীয়ভাবে বা সিআইডির সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ হিসেবে, গত ৬ সেপ্টেম্বর (সালমান শাহর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকীর দিনেই) তার রিমান্ড শুরু হয়।
বুধবার রিমান্ড শেষে তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান ডনকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে হাজির করেন। এদিন আসামিপক্ষ থেকে কোনো আবেদন না থাকায় আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
মামলার পটভূমি ও তদন্তের হালনাগাদ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে সালমান শাহর মৃত্যু হয়। শুরুতে রমনা থানায় এটি অপমৃত্যুর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হলেও দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে গত বছরের (২০২৫) ২০ অক্টোবর আদালত এটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরদিন সালমানের মামা মোহাম্মদ আলমগীর ১১ জনের নাম উল্লেখ করে রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সালমানের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, তার মা লতিফা হক লুসি, আজিজ মোহাম্মদ ভাই এবং ডন।
অন্যদিকে, এই ১১ আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ নবমবারের মতো পিছিয়েছে। আদালত আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেছেন। রিমান্ড থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং সার্বিক আলামত যাচাই-বাছাই শেষে তদন্তের চূড়ান্ত চিত্র শিগগিরই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
মন্তব্য (০)
প্রথম মন্তব্যটি করুন।